ব্রাজিলের ‘সেভেন আপ’ দুঃস্বপ্নের জার্মান ফুটবলাররা এখন কে কোথায়?

প্রথম প্রকাশঃ জুন ১৫, ২০২৬ সময়ঃ ১০:৩৯ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১০:৩৯ অপরাহ্ণ

ফুটবল ইতিহাসে ২০১৪ সালের ৮ জুলাইয়ের রাত এখনো এক অবিশ্বাস্য অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। বেলো হরিজন্তের মিনেইরাও স্টেডিয়ামে সেদিন বিশ্ব দেখেছিল এক অপ্রত্যাশিত দৃশ্য—স্বাগতিক ব্রাজিলকে ৭-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছে যায় জার্মানি।

মারাকানার সেই বেদনাদায়ক রাত পেরিয়ে এখন ১২ বছর পার। মাঠে যারা সেদিন জার্মানির হয়ে ইতিহাস লিখেছিলেন, তাদের অনেকেই এখন ক্যারিয়ারের ভিন্ন পর্যায়ে, কেউ অবসর নিয়েছেন, কেউ আবার এখনো মাঠের সঙ্গে যুক্ত আছেন।

এখনও যারা মাঠে সক্রিয়

সেই দলের অন্যতম মুখ ম্যানুয়েল নয়্যার এখনো পেশাদার ফুটবলে সক্রিয়। বায়ার্ন মিউনিখের এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক বয়সের সীমা পেরিয়েও ক্লাব ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

থমাস মুলার দীর্ঘদিন বায়ার্ন মিউনিখে খেলার পর এখন এমএলএসের ভ্যানকুভার হোয়াইটক্যাপস ক্লাবে যোগ দিয়েছেন। জাতীয় দলে তার অধ্যায় শেষ হলেও ক্লাব ফুটবলে তিনি এখনো পরিচিত মুখ।

জুলিয়ান ড্রাক্সলার বর্তমানে কাতারের একটি ক্লাবে খেলছেন, যদিও জাতীয় দলে তার উপস্থিতি আগের মতো নেই।

রক্ষণভাগের সাবেক তারকারা

ফিলিপ লাম ২০১৭ সালেই ফুটবলকে বিদায় জানান। এখন তিনি ক্রীড়া প্রশাসন ও সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় কাজ করছেন এবং বড় টুর্নামেন্ট আয়োজনে যুক্ত ছিলেন।

জেরোম বোয়াটেং এখনো পেশাদার ক্যারিয়ার চালিয়ে গেলেও আগের মতো শীর্ষ পর্যায়ের প্রভাব আর নেই।

ম্যাটস হুমেলস ২০২৫ সালে দীর্ঘ ক্যারিয়ারের ইতি টানেন, যেখানে তিনি বায়ার্ন মিউনিখ ও বরুশিয়া ডর্টমুন্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।

বেনেডিক্ট হোয়েডেস অবসরের পর ধারাভাষ্য ও বিভিন্ন ফুটবল প্রকল্পে যুক্ত আছেন।

পার মের্টেসাকার বর্তমানে তরুণ ফুটবলারদের উন্নয়ন ও ক্রীড়া ব্যবস্থাপনায় কাজ করছেন।

মিডফিল্ডের প্রজন্ম

সামি খেদিরা অবসরের পর ব্যবসা ও মিডিয়া কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।

বাস্তিয়ান শোয়াইনস্টাইগার টেলিভিশনে ধারাভাষ্যকার হিসেবে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।

মেসুত ওজিল ফুটবল ছাড়ার পর বিভিন্ন ব্যবসায়িক উদ্যোগে সময় দিচ্ছেন।

টনি ক্রুস রিয়াল মাদ্রিদে সফল অধ্যায় শেষ করে ২০২৪ ইউরোর পর ফুটবলকে বিদায় জানান।

আক্রমণভাগের গল্প

মিরোস্লাভ ক্লোসা অবসরের পর কোচিংয়ে যুক্ত হয়েছেন এবং তরুণদের সঙ্গে কাজ করছেন।

আন্দ্রে শুরলে অল্প বয়সেই ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ান এবং এখন ভিন্নধর্মী ব্যক্তিগত প্রকল্পে যুক্ত আছেন।

মারিও গোৎসে এখনো পেশাদার ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত, দীর্ঘদিন ধরেই স্থিতিশীল ক্যারিয়ার চালিয়ে যাচ্ছেন।

শেষ কথা

একসময় যে দলটি ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল, সময়ের সঙ্গে তাদের জীবনও বদলে গেছে। কেউ নেতৃত্বে, কেউ বিশ্রামে, আবার কেউ নতুন পথ বেছে নিয়েছেন। তবে ২০১৪ সালের সেই রাত এখনো ফুটবল ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায় হয়ে রয়ে গেছে।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

20G